১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ রাত ৩:৫৯

রাতের গাভি দিনে হয়ে যায় ষাঁড়, কী খাচ্ছে মানুষ?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, এপ্রিল ৩, ২০২৪,
  • 404 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

রাতের বেলা কেনা গাভি দিনের বেলা হয়ে যাচ্ছে দেশি ষাঁড়! কম দামে গাভি কিনে তা বেশি দামে ষাঁড়ের মাংস হিসেবে ভোক্তাকে ধরিয়ে দিচ্ছেন কসাইরা। আর এভাবেই চলছে রাজধানীর মাংসের বাজার। গরুর দালাল, ব্যাপারী এবং মহাজন অর্থাৎ কসাইদের সঙ্গে কথা বলেই এসব তথ্য জানা যায়। যদিও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বলছে, সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে নেয়া হবে ব্যবস্থা।

রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে কোরবানির ঈদ ছাড়া সাধারণ সময়ে যেসব গরু বিক্রি হয় তার বেশিরভাগ ক্রেতাই কসাই। অর্থাৎ, এই হাট থেকে গরু কিনে জবাই করে বিক্রি করেন রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে।

তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে গাবতলীর পশুর হাটে কয়েকজন গরুর দালাল এবং ব্যাপারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, কসাইরা সাধারণত দুইটি ষাঁড় গরু কিনলে গাভি কেনেন চারটি। যে ষাঁড়ের দাম দুই লাখ টাকা, ঠিক একই ওজনের গাভি পাওয়া যায় ৫০ হাজার টাকা কমে।

ব্যাপারীরা জানান, সব কসাই ষাঁড়ের সঙ্গে গাভি কেনে। ২০টার মধ্যে ষাঁড় জবাই করে ৬টা, বাকি সব গাভি! এরপর তারা ষাঁড়ের মাংসের সাথে মিশিয়ে বিক্রি করে। যা সারা দেশেই হয়।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, চামড়া ছাড়ানোর পর বুঝার উপায় থাকে না কোনটা ষাঁড় আর কোনটা গাভি। তখন সব ষাঁড় হয়ে যায়। কিন্তু কোন দোকানে যদি কেউ গাভির মাংস কিনতে চায়, বলবে যে তারা গাভির মাংস বিক্রি করে না। সব ষাঁড় গরু। কিন্তু যদি দেড়শ গরু থাকে তাহলে ষাঁড় আছে ৫০টা, ১০০ আছে গাভি।

এক ব্যাপারী বলেন, ‘পাঁচটা যদি গাই গরু কাটে তাইলে একটা ষাঁড় গরু কাটবো। একটা ষাঁড় গরুর রান ঝুলাইয়া রাখবো সারাদিন। এডিতে লাভ হয় বেশি।’

শুধু গাবতলী হাট নয়, দেশের সব হাট থেকেই কসাইরা এমন গাভি কিনে তা ষাঁড়ের মাংস হিসেবে বিক্রি করে থাকেন।

কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেলো কোথাও বিক্রি হচ্ছে না গাভির মাংস। সবার দাবি দেশি ষাঁড়ের মাংস বিক্রি করছেন তারা। তাহলে এত গাভি গেলো কোথায়?

একপর্যায়ে গাভি কেনার বিস্তারিত তথ্য তুল ধরলে দোকানিদের একাংশ স্বীকার করলেন, গাভীর মাংস ষাঁড় হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয় অধিকাংশ দোকানে। তাদের মতে, ক্রেতারা জানে না কোনটা কিসের মাংস, ফলে গাভিকে ষাঁড় হিসেবে চালানো হচ্ছে।

কসাইদের স্বীকারোক্তি মতে, ষাঁড়ের রান সামনে ঝুলিয়ে রেখে ভেতরে রাখা হয় গাভির মাংস। জুরাইনের বাজারে সে তথ্যের সত্যতাও মিলছে।

এরমধ্যে এক ব্যবসায়ী তো একধাপ এগিয়ে বললেন,
দোকানদার কাস্টমার না ঠকাইলে ব্যবসা টিকবে না। মিথ্যা কথা কইয়া লাভ নাই যে দোকানদার সব হাজি সাব! একটা ষাঁড়ের দাম যদি হয় এক লাখ টাকা, একই ওজনের একটা গাই গরুর দাম হইব ৮৫ হাজার টাকা। এইখানেই ১৫ হাজার টাকা কম। কাস্টমার দেখতাছে সামনে ষাঁড়ের রান ঝুলতাছে, পেছনে পাঁচটা গাই গরুর মাংস বেঁচতাছে। কেউ বুঝব না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলছেন, এটি সম্পূর্ণভাবে ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমন অবস্থায় অতিলোভী মানসিকতা আর বাজার ব্যবস্থাপনাকে দুষলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক। তার মতে, সমাজের সবখানে অধঃপতন থাকবে, নৈতিক স্খলন থাকবে। আর মাংস ব্যবসায়ীরা নৈতিকতার পরিচয় দেবে — এতোটা সরল বিশ্বাস করাটা ঠিক হবে না।
(সূত্র: সময় সংবাদ)

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights reserved © 2022
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo