স্টাফ রিপোর্টার।। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় পুর্ব শত্রুতার জের ধরে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৭ আগস্ট ) উপজেলার পশ্চিম বড়ইয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডস্থ কলাকোপা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহত তুহিন খলিফা (৩৩) বড়ইয়া ইউনিয়নের হারুন খলিফার ছেলে। বর্তমানে সে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর আগে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এদিকে হামলার ঘটনায় ৭ জনকে আসামি করে রাজাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযুক্তরা হলো, বড়ইয়া ইউনিয়নের মৃত লেহাজ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল হাওলাদার ও শামসুল হক, সোহরাব খানের ছেলে সুমন খান, শাহ আলমের ছেলে মাহবুব, মৃত সায়েদ আলীর ছেলে মিরাজুল ও বাবুল, রুস্তম আলীর ছেলে জুনায়েদ।
ভুক্তভুগী তুহিন অভিযোগ করে জনান, বড়ইয়া ইউনিয়নে আমার রড ও সিমেন্টের ব্যবসা ছিল। সেখান থেকে জুয়েল প্রায় ৫২ হাজার টাকার সামগ্রী বাকিতে নেন। বিভিন্ন সময়ে টাকা চাইতে গেলে তার সাথে বিরোধ পর্যন্ত গড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ আগস্ট রাত ৯ টার দিকে
আমার চাচা শশুড় নাসির উদ্দিন এর কাছ থেকে পাওনা এক লক্ষ দশ হাজার টাকা নিয়ে আমার নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রাজাপুর থেকে গাড়িতে রওনা দেই। কিন্তু অভিযুক্তসহ আরও অজ্ঞাত ৮/১০ জন সন্ত্রাসী ইউনিয়নের কলাকোপা বাজার সংলগ্নে জোরপূর্বক গাড়ি থামায়। এসময় আমাকে বেধরক পেটাতে থাকে তারা। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এতে আমার পা’সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়। পাশাপাশি আমার সাথে থাকা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা তারা ছিনিয়ে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে চলে যায়। গাড়িতে থাকা অন্য এক যাত্রি আমার পরিচিত হওয়ায় আমার পরিবারকে ফোন করে বিষয়টি জানালে তারা ছুটে এসে আমাকে উদ্বার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরদিন সকালে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তুহিন জানান, পায়ের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আমাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তুহিন আরও জানান, আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা বিভিন্নভাবে আমাদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মু.আতাউর জানান, অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।