স্টাফ রিপোর্টার।। বরিশাল বিমানবন্দর থানাধীন চাঁদপাশা ইউনিয়নের বকশির চর গ্রামে জমিজমা বিরোধের জেরে এক অসহায় পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এতে বৃদ্ধ আব্দুল মান্নান (৭০), তার স্ত্রী কহিনুর বেগম এবং পুত্রবধূ রহিমা বেগম রক্তাক্ত জখম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তারা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা মৃত আদম আলী হাওলাদারের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তার পৈত্রিক ওয়ারিশি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী মৃত আমজাদ হাওলাদারের ছেলে আনিসুর রহমান খোকা ও তার পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। বর্তমানে এ জমি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন আব্দুল মান্নানের বসতঘরের রান্নাঘরে নতুন টিন লাগিয়ে সংস্কার করলে প্রতিপক্ষ খোকা ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান জানান, ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটার দিকে আনিসুর রহমান খোকার ভাতিজা মিন্টু ও তার সহযোগী মজিবরসহ অজ্ঞাত আরো ৪-৫ জন সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তাকে উদ্ধার করতে স্ত্রী কহিনুর বেগম ও পুত্রবধূ রহিমা বেগম এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও ধারালো এবং লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার সময় আহতের পকেটে থাকা নগদ অর্থ এবং পুত্রবধূর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে।আহতদের ডাক চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে ভুক্তভোগীরা হাসপাতালে ভর্তি থাকার সুবাদে মজিবর, শাহীন, মিন্টু, কালাম চকিদার, কবির খোকা সহ একদল দুর্বৃত্ত পুনরায় আব্দুল মান্নানের বাড়িতে সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়ে তারা রান্নাঘর গুঁড়িয়ে দেয় এবং ঘরের আসবাবপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি পুলিশকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানালে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করে।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান,জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।