১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ৯:০৪
শিরোনামঃ

আমতলীতে ৫০ বছর পর মাটির রাস্তা পেয়ে খুশি ৪ গ্রামের মানুষ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, মে ৩১, ২০২৩,
  • 423 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

আমতলী (বরগুনা) : ‘মোগো গুরাগারা লেহা পরার লইগ্যা এহন আর বাড়িতে বইস্যা থাহন লাগবে না। মাডির রাস্তা পারাইয়া স্কুল কলেজে জাইতে পারবে, বাজার ঘাট ডাক্তার কবিরাজ দেহানোর লইগ্যা এহন আর কাদা পারাইতে অইবে না। ৫০ বছর পর ৪ গ্রামের মানুষ মাটির রাস্তা পাওয়ায় ভূক্তভোগী চলাভাঙ্গা গ্রামের ষাটোর্ধ জরিনা বেগম আবেগ আপ্লুত হয়ে এ কথা বলেন’।

আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৪টি গ্রামের ৭ হাজার মানুষের চলাচলের জন্য ৫০ বছরেও কোন সড়ক ছিল না। এবছর ওই ৪ গ্রামের জন্য মাটির দুটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। মাটির সড়ক পেয়ে খুশিতে আত্মহারা ওই ৪ গ্রামের ৭ হাজার মানুষ।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চলাভাঙ্গা, দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী, আমতলী ও উর্সিতলা গ্রামে প্রায় ৭ হাজার লোকের বসবাস। কিন্তু যাতায়ায়াতের জন্য গ্রামবাসীর ছিল না কোনো কাঁচা কিংবা মাটির সড়ক। শুকনো ও বর্ষা মৌসুমে পরিবারগুলোর যাতায়াতের পথ ছিলো জমির আইল দিয়ে।

ওই ৪টি গ্রামে বসবাসকারীদের কষ্ট নিরষনের জন্য ২০২২- ২০২৩ অর্থ বছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি ২য় পর্যায়ে প্রকল্পের অধিনে দক্ষিণ- পশ্চিম আমতলী গ্রামের আলমগীর শিকদারের বাড়ী হইতে পবনের বাড়ী পর্যন্ত দের কিলোমিটার, চলাভাঙ্গা নাদের তালুকদার বাড়ীর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের ব্রিজ হইতে আর্শ্বেদ হাজী বাড়ী পর্যন্ত দুই কিলোমিটার মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়। সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে দুটি মাটির রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে ওই ৪ গ্রামের ৭ হাজার মানুষ চলাচলের সুবিধা পাবে।

চলাভাঙ্গা ও দক্ষিণ- পশ্চিম আমতলী গ্রামের বাসিন্দা খবির তালুকদার, সোলায়মান, নিজাম উদ্দিন, কলেজ শিক্ষার্থী রাকিব ও মনিরা সুলতানা জানান, গত ৫০ বছর পূর্বে তাদের পূর্ব- পুরুষরা ওই গ্রামগুলোতে বসতি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। তাদের যাতায়াতের জন্য ছিলো না কোনো রাস্তা। এমনকি বিলের মধ্যে দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা কষ্টকর হওয়ায় কোনো জনপ্রতিনিধিই এতোদিন এগিয়ে আসেননি। আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ- সভাপতি মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধার কাছে বিলের মধ্যে দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি করেন ওই ৪ গ্রামের ভোক্তভোগী মানুষ। শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে দুটি মাটির রাস্তা তিনি নির্মাণ করে দেন।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আমতলী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল হোসাইন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে নির্মাণাকৃত নতুন রাস্তা দুটির কাজ পরিদর্শণ করেন।

আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, তার ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী, আমতলী ও উর্সিতলা গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষ দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় রাস্তা ছাড়া কাদা মাটি পার হয়ে চলাচল করে আসছে। এতদিন পরিবারগুলোও গ্রামের মূল সড়ক থেকে বিছিন্ন ছিলো। তাই ওই পরিবারগুলোকে গ্রামের মূল সড়কের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে রাস্তা নির্মাণ করে দিয়েছি। ভভিষ্যতে এ সড়ক পাঁকা করে দেওয়া হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জামাল হুসাইন বলেন, মাটির সড়ক পেয়ে ৪ গ্রামের মানুষ খুশি হয়েছে। তারা এখন এই সড়ক দিয়ে মুল সড়কে চলাচল করতে পারবে।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights reserved © 2022
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo