১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ৯:৩২

বরিশাল-৩/ ব্যর্থ লাঙ্গল আর টানতে চাইনা, এবার মানুষ পরিবর্তন চায়- স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিক

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৩,
  • 399 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ক্রমেই প্রচারণায় মুখর হয়ে ওঠছে সংসদীয় এলাকাগুলো। প্রার্থীরা নিজেদের অস্তিত্ব জানান ও নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন।

উন্নয়ন ও অগ্রসরে ভুমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জনসাধারণের মাঝে নানামুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। আর এতেই ক্রমেই প্রচারমুখর হয়ে ওঠছে প্রার্থীদের স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকা।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনও এর ব্যতিক্রম নয়। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে এ আসনটিতে প্রার্থীদের প্রচার তৎপরতা ততই বাড়ছে। এছাড়া স্ব স্ব প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকরা সমানতালে নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে নানা মাধ্যমে ভোট চাইছেন।

জানা গেছে, বরিশাল-৩ আসনটি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মহাজোটের দখলে রয়েছে। এ আসনে ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. টিপু সুলতান। ২০১৮ সালে টিপু সুলতান মহাজোটের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিলেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু ‘লাঙ্গল’, ওয়ার্কাস পার্টির টিপু সুলতান ‘হাতুড়ি’, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আজমুল হাসান জিহাদ ‘ছড়ি’, তৃণমূল বিএনপির শাহানাজ হোসেন ‘সোনালি আঁশ’, স্বতন্ত্র আমিনুল হক ‘ঈগল’ ও স্বতন্ত্র আতিকুর রহমান ‘ট্রাক’ ।

তবে নির্বাচনী মাঠে ভোটারদের আস্থা ও সমর্থন জুগিয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমান। জনসমর্থনে নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। তার প্রতি জনগণের ভালবাসার প্রতিফলন ঘটছে প্রতিক বরাদ্দের পর থেকেই প্রত্যেকটি উঠান বৈঠক , গণসংযোগ সহ নানামুখী নির্বাচনী প্রচারণায়। দুই উপজেলার ভোটারদের বড় একটি অংশ তাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বৃহদাংশ তার নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন।

যার ফলস্বরুপ গতকাল বিকেলে বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজগেইট থেকে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী আতিকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত প্রচারমূলক মিছিলে অংশ নেন উপজেলার সহস্রাধিক নেতাকর্মী সহ সাধারণ ভোটাররা। মিছিলটি কলেজগেইট থেকে শুরু করে বাজার এড়িয়া সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজ গেইটে গিয়ে সমাপ্ত হয়। সহস্রাধিক নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের নিয়ে মিছিলটি ছিল নজড়কারা।  ভোটারদের সাথেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।

এসময় সাংবাদিকদের দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আতিকুর রহমান বলেন, মুলাদী ও বাবুগঞ্জবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। গত ১০ বছর ধরে আসনে মহাজোটের প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে থাকলেও কোন উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন হয়নি। উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে এই দুই উপজেলা। সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা বঞ্চিতই রয়ে গেছেন তারা।

মূলত তাদের ভোগান্তি দূরীকরণ ও মানুষ যাতে যথাযথ সেবা শতভাগ পেতে পারেন সেজন্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।

নির্বাচিত হলে প্রথমেই মীরগঞ্জ সেতুটি করব। যদিও এই সেতুর অনুমোদন দেয়া হয়েছে । বাকি কাজ যেটুকু রয়েছে সেটুকু বাস্তবায়নে জোর প্রচেষ্টা চালাবো।

আতিক বলেন, দুই উপজেলা হচ্ছে নদীবেষ্টিত । সুরক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে যাতে শিল্প কারখানা স্থাপন করা যায় সে ব্যবস্থা করবো। এছাড়া যুবসমাজের মধ্য থেকে বেকারত্ব দুরীকরণে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

আতিক আরও বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলায় স্বনামধণ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ উন্নত রাস্তা ঘাটের নির্মাণ করা হবে। শান্তিপুর্ণ ও মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তুলবো।

এসময় তিনি সারা বাংলাদেশে মডেল মসজিদ নির্মাণ হলেও বর্তমান সংসদ সদস্যকে দায়ী করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে মডেল মসজিদ নির্মাণের নির্দেশনাপুর্বক বাস্তবায়ন করেছেন। ।

কিন্ত বাবুগঞ্জবাসীর দুর্ভাগ্য বর্তমান সংসদ সদস্য বাবুগঞ্জে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে পারেনটি। সরকারের সেই বরাদ্দ তিনি আনতে পারেননি। এটা তার অদক্ষতার পরিচয়। নির্বাচিত হতে পারলে একটি স্বতন্ত্র মেডিকেল চিকিৎসালয়ও স্থাপন করবো। যাতে মানুষ দ্রুতই কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন।

এদিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাদপাশা ইউনিয়নে নির্বাচনী পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আতিক । তিনি বলেন, রাতের আধারে কতিপয় ব্যক্তি আমার নির্বাচনী পোষ্টার ছিড়ে ফেলছে। আমি এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করবো।

এর আগে মিছিল শেষে নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে বক্তব্য রাখেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুর রহমান ।

এসময় তিনি বলেন,  বাবুগঞ্জবাসী চান ব্যর্থতার বিরুদ্বে একটি পরিবর্তন। আমাকে ভোট দেয়ার জন্য বাবুগঞ্জের মানুষ ঐক্যব্যদ্ধ হয়নি । তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বাবুগঞ্জের রাস্তা-ঘাট- ব্রীজ না করতে পারা লাঙ্গলের বিরুদ্বে।

আমি দল বুঝিনা। আমার বাবা শিক্ষক ছিলেন । আমি আপনাদের সন্তান। বর্তমান সরকার উন্নয়ন করে। আমরা উন্নয়ন করতে চাই। রাজনীতির মধ্যে থাকতে চাইনা তবে উন্নয়ন করার সুযোগ দেন।

আতিক আরও বলেন, বিভিন্ন দল থেকে নেতাকর্মীরা ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বাবুগঞ্জবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছে যারা উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনা তাদের বিরুদ্বে।

স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বাবুগঞ্জের চিত্র পরিবর্তনে ট্রাক মার্কায় ভোট দিবেন। ট্রাক মার্কা জনগনের মার্কা । উন্নয়নের মার্কা। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের মার্কা। ব্যর্থ লাঙ্গল আর টানতে চাইনা। এবার মানুষ পরিবর্তন চায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights reserved © 2022
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo