মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শের চমৎকার নিদর্শন সাহাবায়ে কেরামের ঈদ কেমন ছিল তা থেকেও আমরা ঈদ উদ্যাপনের ধারণা নিতে পারি। সাহাবায়ে কেরাম সর্বক্ষেত্রে মহানবি (সা.)-এর অনুসরণ করতেন। তারা এ বাক্যের মাধ্যমে ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ অর্থাৎ মহান আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ভালো কাজগুলো কবুল করুন।
সাহাবায়ে কেরাম মাহে রমজানে গুনাহ মাফ হয়েছে কি না, এ ব্যাপারে বেশি চিন্তিত থাকতেন। তাই আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর ফারুক (রা.) ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে বলতে থাকেন, আমার গুনাহ মাফ না হলে আমি ঈদগাহে গিয়ে কিভাবে ইমামতি করতে পারি।
তাদের ঈদে নতুন জামা, জুতা ও খাওয়াদাওয়ার ধুমধাম ছিল না। তবে আনন্দও কম ছিল না। মহানবি (সা.)-এর সান্নিধ্য লাভ করা, তাকে কাছে পাওয়া, তার নির্দেশ পালন করাই ছিল তাদের প্রকৃত আনন্দ। ঈদের দিন অনেক দূর থেকে সাহাবায়ে কেরাম ছুটে যেতেন মহানবি (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তার পেছনে দুই রাকাত ঈদের নামাজ পড়তে।
এক ঈদুল ফিতরের দিনে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কাঁদছেন। অঝোরে কাঁদছেন। সবাই যার যার মত করে আনন্দ করছেন। হঠাৎ সাহাবারা খেয়াল করলেন ওমর ফারুক (রা.) কাঁদছেন। অবাক হয়ে সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কাঁদছেন?
এই ঈদের দিনেও? এ খুশির দিনেও আপনি কান্না করছেন? তখন ওমর রা. জবাব দিলেন, আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল কিন্তু ইবাদত করে গুনাহ মাফ করে নিতে পারল না, সে ধ্বংস হোক। এখন রোজা শেষ হয়ে আজ ঈদের দিন। আমি এখনও জানি না আমার গুনাহ মাফ হয়েছে কি না? আমি কীভাবে নিশ্চিত হয়ে ঈদ আনন্দ করি?
বছরে পাঁচটি রাতে আল্লাহ তায়ালা ইবাদত কবুল করেন, দোয়া কবুল করেন। তারমধ্যে দুই ঈদের রাত। এ রাত্রীগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। আমরাও যদি তাদের পথে চলি, তাদের পথে হাঁটি, আল্লাহ আমাদের ওপরও রাজি-খুশি ও সন্তুষ্ট হবেন।