মানবতার ফেরিওয়ালার মুখোশের আড়ালে ভয়ংকর সব প্রতারণার অভিযোগ ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে।
অসহায় মানুষের নামে সংগ্রহ করা অর্থ আত্মসাৎ এবং তাদের কিডনিসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরির মতো গা শিউরে ওঠা অভিযোগ রয়েছে মিল্টনের বিরুদ্ধে।
এছাড়া জাল ডেথ সার্টিফিকেট তৈরি এবং জমি দখলের মতো গুরুতর সব অভিযোগ এখন চাউর হচ্ছে। অসহায়-দুস্থ মানুষের সেবার কথা বলে গড়ে তোলা ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ নামের একটি বৃদ্ধাশ্রম ঘিরে তার অপকর্মের ফিরিস্তি এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।
মিল্টনের ভয়ংকর সব অপকর্মের অভিযোগের বিষয় আমলে নেয় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। জনস্বার্থে এ বিষয়ে কমিশন অভিযোগও গ্রহণ করেছে। ২৮ এপ্রিল মানবাধিকার কমিশন থেকে মিল্টনের অভিযোগের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও দ্রুত কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে বলা হয়।
একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে বলা হয়। মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে ৩০ মে প্রতিবেদন দেওয়ার দিন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মিল্টন সমাদ্দার বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেকে ভালো মানুষ হিসাবে আখ্যা দেওয়ার অপচেষ্টা করলেও সবকিছুতেই রহস্যের জট ঘনীভূত হচ্ছে। এমতাবস্থায় মিল্টনের ভয়ংকর সব অপকর্মের অভিযোগের বিষয় আমলে নিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। জনস্বার্থে এ বিষয়ে কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগও গ্রহণ করেছে। ২৮ এপ্রিল মানবাধিকার কমিশন থেকে মিল্টনের অভিযোগের বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও দ্রুত কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে বলা হয়েছে।
মানবতার ফেরিওয়ালা মিল্টন সমদ্দারের বিরুদ্ধে নির্যাতন থেকে শুরু করে এর চেয়েও গুরুতর অভিযোগ নতুন নয়। তার আশ্রমে যেসব ভবঘুরে, পরিত্যক্ত, অসহায় মানুষ থাকতেন, তারা মারা গেলো না কই হারিয়ে গেল সেসব জানানো হয় না জিম্মাদার বা অভিভাবককে।
যেমন একটি রশিদ দিয়ে চাইল্ড এন্ড অল্ড এজ কেয়ারে রাখা হয়েছিল অজানা মহিলা নামে এক বৃদ্ধাকে। কিন্তু পরে তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। দেড় মাস পরে তার জিম্মাদার খোঁজ আনতে গেলে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বের করে দেয়া হয়।
এই আশ্রমে যারা মারা গিয়েছেন তাদের অনেকের শরীরেই কাটা-ছেড়ার দাগ থাকায় পাশের বায়তুস সালাহ মসজিদ মুর্দার গোসল করাতেও অস্বীকৃতি জানায়। মিল্টনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে মৃত্যুর সনদ জালিয়াতিরও। রাজধানীর দক্ষিণ পাইকপাড়ার ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান, ডেথ সার্টিফিকেট নেয়া হতো না কাউন্সিলর অফিস থেকে।
১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেওয়ান আব্দুল মান্নান বলেন, যে পরিমাণ তার এখানে মৃত্যুবরণ করে তার তো একটা ডেথ সার্টিফিকেট নিতে হয়। আমি শুনেছি যে, সে নিজে নিজেই সীল মেরে দিয়ে দিতো।