অনলাইন ডেস্ক
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম টানেল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে বহুল প্রত্যাশিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের উদ্বোধন করেন তিনি। টানেল দিয়ে পার হয়ে কর্ণফুলী উপজেলার কেইপিজেড মাঠে গিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী বলে খ্যাত বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে পতেঙ্গা ও আনোয়ারা উপজেলার মধ্যে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। আগামীকাল (সোমবার) সকাল ৬টা থেকে যানবাহন চলাচলে খুলে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলে’ উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের পর পরই ফোটানো হয় আতশবাজি। পরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্যরা। টানেল উদ্বোধনের আগে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয় টানেলের আশপাশে। টানেলমুখী সড়কগুলোতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী গাড়িতে করে টানেল পার হয়ে হয়ে ওপারে আনোয়ারার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে নদীর তীরে আরেকটি ফলক উন্মোচন করার কথা রয়েছে। ফলক উন্মোচন শেষে দুপুরে আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেড বা কেইপিজেড মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজিত দলটির জনসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টায় হেলিকপ্টারে করে পতেঙ্গায় নেভাল হেলিপ্যাডে পৌঁছান শেখ হাসিনা। সেখান থেকে তিনি কর্ণফুলীর নদীর পশ্চিম তীরে টানেলের ফলক উন্মোচনের জন্য যান। পরে দুপুর ১২ টা ২ মিনিটে তাঁকে বহনকারী গাড়ীবহর টানেলের আনোয়ারা প্রান্তের টোলপ্লাজার সামনে পৌঁছায়। সেখানে শেখ হাসিনা নিজ হাতে টোল পরিশোধ করে টানেল দিয়ে পার হয়ে নদীর ওপারে পৌঁছান।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বন্দর নগরীকে সাজানো হয় মনোরম সাজে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা–কর্মীদের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে যায় নগরী ও আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট। আনোয়ারায় জনসভার স্থলে নৌকার আদলে তৈরি মঞ্চে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয়েছে জনসভা।