কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় দিনব্যাপী মহাসড়ক আটকিয়ে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, নথুল্লাবাদ এলাকায় পুলিশ বক্সে হামলার অভিযোগে কাঁদুনে গ্যাস ও শটগানের ফাঁকা গুলি করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা আকস্মিক শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা কনস্টেবল জালাল আহম্মদ শরীফ পুলিশ বক্সে হামলা করে। এ সময় সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যদের কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
পুলিশ বক্সে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য সামান্য আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আটটি কাঁদুনে গ্যাস ও ২৪টি শটগানের ফাঁকা গুলি করা হয়। এতে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বলে জানান লোকমান হোসেন।
এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিকাল ৫টার দিকে বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে আন্দোলনস্থল থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। এর কিছু সময় বাদে ওই শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, নথুল্লাবাদ এলাকার শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা কনস্টেবল জালাল আহম্মদ শরীফ পুলিশ বক্সে তাদের কয়েকজন সহপাঠীকে আটক করেছে পুলিশ।
এমন খবরে শিক্ষার্থীরা সেখানে গেলে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনার পর বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ ভুঞা বলেন, “আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কোনো তথ্য যাচাই না করে পুলিশ বক্সের দিকে তেড়ে আসেন। কোনো এক ছাত্র দৌড়ে পুলিশ বক্সে ঢুকলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
“তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করছে। ইট-পাটকেলের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য কমবেশি আহত হয়েছেন। আর পুলিশের মালামাল বলতে মোটরসাইকেল ভাঙচুরের বিষয়টি এখন পর্যন্ত সামনে এসেছে। তবে সঠিক বিষয়টি নিরূপণ করতে সময় লাগবে”, বলেন উপ-কমিশনার আশরাফ ভুঞা।