মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময় সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত, পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্মার্ট গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনের জন্য ঢাকায় ছয়টি ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ জন্য গঠন করা হয় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
এই কোম্পানি ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট গণপরিবহন হিসেবে ফাস্ট ট্রাকভুক্ত ৬টি মেট্রোরেলের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য ২০৩০ পর্যন্ত একটি কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-৬, এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের নির্মাণ কাজ চলছে।
এ ছাড়া এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন রুটের ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। পাশাপাশি এমআরটি লাইন-২ ও এমআরটি লাইন-৪ মেট্রোরেল প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডিজের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার খোঁজা হচ্ছে। তাই এখনো কোনো প্রকল্প পরিপূর্ণভাবে শেষ হয়নি। এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ কাজ লছে। এই পর্যন্ত এই পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৩০ দশমিক ০৫ শতাংশ।
বিভিন্ন দেশের মেট্রোরেল পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, শুধু ভাড়ার আয় থেকে লাভজনকভাবে মেট্রোরেল পরিচালনা করা যায় না। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো ভাড়া থেকে সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ আয় করে থাকে। অবশিষ্ট ৩৫ শতাংশ আয় সরকার ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করে থাকে। উন্নত দেশসমূহে ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি) ও স্টেশন প্লাজা নির্মাণ করে এই আয়ের সংস্থানও করা হয়ে থাকে। তবে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো টিওডি এবং স্টেশন প্লাজা নির্মাণের কাজ শুরু করেনি।
পুরো কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালে ॥ গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখ উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশ এবং গত ৪ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এখন শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী উত্তরা উত্তর হতে মতিঝিল পর্যন্ত ১৩ ঘণ্টা মেট্রোরেল বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করছে। প্রত্যুষ থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড হেডওয়েতে ১৮ ঘণ্টা মেট্রোরেল বাণিজ্যিকভাবে চলাচল এখনো শুরু হয়নি।
এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পটির কমলাপুর পর্যন্ত পুরো অংশটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। প্রকল্পটি এখনো চলমান থাকায় ডিএমটিসিএল পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, এমআরটি লাইন-৬ এর সম্পূর্ণ অংশ পরিপূর্ণভাবে চালু হওয়ার পর মেট্রোরেল পরিচালনাকালে দৈনিক যাত্রার সময় বাবদ প্রায় ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং যানবাহন অপারেশন ব্যয় বাবদ প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে।
এই সাশ্রয়কৃত অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মহানগরবাসীর জীবন যাত্রায় ও গতি বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এখনই মেট্রোরেলের ওপর ভ্যাট আরোপ করলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ভ্যাট দিতে হলে স্বল্প আয়ের মানুষ মেট্রোরেলে উঠবে না
মেট্রোরেলে ভ্যাট আরোপে এনবিআরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। জুলাই মাস থেকে মেট্রোরেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক ভ্যাট আরোপের তীব্র বিরোধিতা করে সংস্থা জানায়, এর ফলে মেট্রোরেলে ১৫ শতাংশ ভাড়া বেড়ে যাবে, মেট্রোরেল ব্যবহারকারী ঢাকার স্বল্পবিত্ত ও মধ্যবিত্তের অনেকেরই জন্য মেট্রোরেলের নিয়মিত ব্যবহার সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে।