জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট মওকুফে অপারগতা প্রকাশ করায় আগামী অর্থবছর অর্থাৎ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে মেট্রোরেলের টিকিটে ভ্যাট বসছে। গত ৪ এপ্রিল এই আদেশ জারি করেছে এনবিআরের ভ্যাট বিভাগ। ভ্যাট সাধারণত ভোক্তাকেই দিতে হয়, সেজন্য মেট্রোরেলের ভাড়া ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে।
মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর বর্তমানে ভ্যাট মওকুফ আছে, যার সময়সীমা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড অব্যাহতির মেয়াদ শেষে মূল্য সংযোজন কর আরোপ না করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অনুরোধ করেছিল; কিন্তু এনবিআর এই মওকুফ সুবিধা আর অব্যাহত রাখতে আগ্রহী নয়।
ভ্যাট বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, রূপকল্প-২০৪১ অনুযায়ী উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে দেশে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চলছে।
সেজন্য সরকারকে প্রতিনিয়ত অর্থের জোগান দিতে হচ্ছে, যা মূলত আহরিত হচ্ছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মাধ্যমে। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশ ইত্যাদি লক্ষ্য সামনে রেখে সময়ে সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। উন্নয়নের বিপুল কর্মযজ্ঞে অর্থের জোগান অব্যাহত রাখাসহ দেশের এলডিসি উত্তরণ এবং কর-জিডিপি অনুপাত কাক্সিক্ষত মাত্রায় উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে প্রদত্ত অব্যাহতি সুবিধা ক্রমান্বয়ে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
অর্থাৎ অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকুচিত করা হচ্ছে। এই বাস্তবতায় মেট্রোরেল সেবার ওপর ২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ থেকে ৩০ জুন, ২০২৪ পর্যন্ত যে মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল, মেয়াদ শেষে তা আবারও অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অপারগতা জানিয়েছে।
উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত আংশিক মেট্রোরেল চালু হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। গত বছর থেকে মতিঝিল অংশ পর্যন্ত চলছে মেট্রোরেল। এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পটি উত্তরা থেকে রাজধানীর কমলাপুর পর্যন্ত ২১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে কমলাপুর অংশটি এখনো নির্মাণ কাজ চলছে। বর্তমানে মতিঝিল পর্যন্ত প্রতিদিন কমবেশি আড়াই লাখ যাত্রী পরিবহন করে এই নগর পরিবহন ব্যবস্থা।
২০২৩ সালের শুরু থেকেই মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ভ্যাট আরোপের উদ্যোগ নেয় এনবিআর। ওই বছরের ২২ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শওকত আলী সাদী ভ্যাট আরোপের আহ্বান জানিয়ে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে (মেট্রোরেল কোম্পানি) চিঠি দেন। পরে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও হয়।
তবে ভ্যাট আরোপ থেকে এনবিআর শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসে। ২০২৩ সালের মে মাসে এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে জানায়, ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত মেট্রোরেলের টিকিটের ওপর ভ্যাট মওকুফ থাকবে। কিন্তু এখন আর তার সীমা বাড়াচ্ছে না এনবিআর।
তবে আলোচনা ছাড়াই ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালন এমএএন ছিদ্দিক। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের জানা মতে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ভ্যাটের বিষয়টি স্থগিত আছে। এরপর যদি ভ্যাট আরোপ করা হয়, তাহলে আমাদে সঙ্গে আলোচনা করা দরকার ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই গত ৪ এপ্রিল একটি চিঠি দেওয়া হয় আমাদের।’