স্টাফ রিপোর্টার।। পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া পারিবারিক কলহের জের ধরে দুই দফায় হামলা চালিয়ে এক গৃহবধূর গর্ভে থাকা ৭ মাসের নবজাতক কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে। আহত ওই গৃহবধূকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত ২ টায় ও ২৭ অক্টোবর দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতের ভাই শাহ জামাল জানান, গত ৭ বছর পূর্বে তার বোন আয়েশা আক্তারের সাথে মঠবাড়িয়া মিরু খালি ছোট আরজি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে ইমরানের পারিবারিক প্রস্তাবের মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের কোল জুরে দুটি ফুটফুটে সন্তান আসে। হঠাৎ বিদেশে যাবে বলে আয়েশাকে তার পিত্রালয় থেকে ৭ লক্ষ টাকা যৌতুক আনতে বলে। বিষয়টি আয়েশা তার ভাইকে অনুরোধ করে বললে ভাই শাহ জামাল বোনের সুখের কথা ভেবে ইমরানকে ৭ লক্ষ টাকা যৌতুক দেয়। ইমরান বিদেশে যাওয়ার মাস কয়েক পর আয়েশাকে তার বাড়ি থেকে চলে যেতে বলে এবং তাকে সময় মতো তালাকনামা পাঠিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ২৬ অক্টোবর তার শ্বাশুড়ি এমিলি জানতে পারে আয়েশা গর্ভবতী। বিষয়টি জেনে এমিলি ও রুপা সহ অজ্ঞাত আরো ৩-৪ তার গর্ভে থাকা নবজাতককে হত্যার উদ্দেশ্যে তার তল পেটে এলোপাথাড়ি লাথি মারে। এতে সে রক্তাক্ত জখম হয়। সংবাদ পেয়ে শাহ জামাল তার বোনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার অবস্থার অবনতি হলে সেখানের চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহত আয়শাকে সিজার করে মৃত বাচ্চা প্রসব করায়। তার পেটে আঘাতের কারণে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়ে বাচ্চার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাইনি এন্ড অবস ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। নবজাতক হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনীর কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে আহতের স্বজনরা জানান।