১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৩:৫২
শিরোনামঃ

বরিশাল শেবাচিমে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘটে জিম্মি রোগীরা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ বুধবার, মার্চ ২৭, ২০২৪,
  • 363 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের ১৯০ ইন্টার্ন চিকিৎসক ৪ দিন ধরে কর্মবিরতি ডাকায় জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারন রোগীরা। বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ৪ দফা দাবি আদায়ে এ হাসপাতালের প্রাণ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ৩০ হাজার টাকা বেতন-ভাতার দাবিতে এ কর্মবিরতি ডেকেছে। তারা দায়িত্ব পালন না করায় ৪ দিন ধরে আশানুরূপ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

হাসপাতালের অধিকাংশ রোগীই কম আয়ের। তাই বেসরকারি সেবা নিতে না পেরে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বিছানায় পড়ে রয়েছে। সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকরা রোস্টার করে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও তা খুবই অপ্রতুল বলে দাবি রোগী ও স্বজনদের। তাই অবিলম্বে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে।

তবে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে অর্থ সংকটে পড়ে বাধ্য হয়ে এ আন্দোলনে ডেকেছে বলে দাবি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের। তাই দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন আন্দোলনকারী ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের নেতাকর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলে জানান তারা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ২৩ মার্চ রাত থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি ৩১ মার্চ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন নেতারা।

জুয়েল নামের এক রোগী বলেন, জুনিয়র ডাক্তাররা আগে নিয়মিত দেখে যেতেন। এখন ক’দিন ধরে তাদের হাসপাতালে দেখছি না। তাই চাহিদা মত সেবাও পাচ্ছি না। বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর টাকা নেই। তাই এখানে পড়ে থেকে ভুগছি।

বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের প্রাণ। তারা কর্মবিরতিতে থাকলে রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় অন্যান্য চিকিৎসকদের। সেক্ষেত্রে সেবা ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। তাই অবিলম্বে কর্মবিরতি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের দাবি আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে আহ্বান জানান তিনি।

ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, একজন দিনমজুর ৮ ঘণ্টা কাজ করে থাকেন। সেখানে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। তবুও আমরা ন্যায্য বেতন পাই না। আজকাল বাসাভাড়া দিতে হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।

অন্যদিকে আমাদের বেতন মাত্র ১৫ হাজার টাকা। এ টাকায় একজন মানুষ চলতে পারে না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি কর্মবিরতিতে রোগীদের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এ চিকিৎসক নেতা।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights reserved © 2022
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo