নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝালকাঠি জেলাধীন নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম রনি। তার রাজনীতির ইতিহাস ঘাটলে অতীত কোন পদ পদবী খুঁজে পাওয়া যায় না। ছিলেন না কোন ওয়ার্ড কিংবা ইউনিয়ন কমিটির সদস্যও। কোন এক কেন্দ্রীয় নেতার তদবিরে আকস্মিক পেয়ে যান নলছিটির ছাত্রদলের আহবায়কের পদ।
এজন্য ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদ নয় পুরো নলছিটি উপজেলাকে লিজ নিয়েছেন তিনি। ছাত্রদলের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় মাদক বাণিজ্য চাঁদাবাজি দখলসন্ত্রাস লুটপাট সহ নানা অনিয়ম দূর্নীতিতে মেতে উঠেছে সে।এমনকি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অন্যতম দোসর এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমুর এপিএস শাওনের ঠিকাদারি কাজ মাসোহারার বিনিময়ে উঠিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে ছাত্রদল আহ্বায়ক রনি। তেঁতুলবাড়িয়া টু ভবানীপুর সড়কের ইউনি ব্লকের এ কাজ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। ভাবতে অবাক লাগে রনির চাঁদাবাজি গিয়ে ঠেকেছে কবরস্থান পর্যন্ত।
তার মূল অস্ত্র ছাত্রদলের উপজেলা আহবায়ক পদ আর গুলি হচ্ছে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের স্ক্রিনশট। জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সারা বাংলাদেশের প্রতিটি ইউনিটে ছাত্র নেতাদের সাথে তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন। সেই কনফারেন্সের স্ক্রিনশট সবাইকে দেখিয়ে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে ছাত্রনেতা নামধারী চাঁদাবাজ মাদক ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম রনি।
বেশ কিছুদিন আগে তেঁতুলবাড়িয়ার হেলাল সিকদার ও রুস্তম আলী শিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাদের কবরস্থানে বালু ফেলানোকে কেন্দ্র করে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে ছাত্রদল নেতা রনি তার সহোদর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রাইসুল ইসলাম লিটন তার সেকেন্ড ইন কমান্ড হাসিব বিল্লাহ,মোটর শ্রমিক লীগের প্রধান উপদেষ্টা জুলহাস সিকদার,তেঁতুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক দপ্তরি নেছাব আলী, সজল মোল্লা গরু চোর সিন্ডিকেটের মূল হোতা কামাল ফকির সহ রনি বাহিনীর ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির চাঁদাবাজ। রনির চাঁদাবাজি মাদক বাণিজ্যর ব্যাপারে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠলে তিনি ভুক্তভোগীদের উপর চালান দমন পীড়ন। স্থানীয় বিএনপি কর্মী হেলাল শিকদার রাব্বি শিকদার সহ অনেকের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালালেও তারা বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না।
জানা গেছে, মোল্লারহাট ইউনিয়ন আলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সোহেলের সাথে রনির রয়েছে গভীর সখ্যতা। এই সোহেলের মাধ্যমেই এবং রনির সহোদর বরিশাল ঢাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাট রাইসুল ইসলাম লিটন কামাল ফকির সজল মোল্লা হাসিব বিল্লাহ, মাসুম সহ সাঙ্গপাঙ্গদের মাধ্যমে এলাকায় মাদকের নীল বিষ ছড়াচ্ছে রনি ও তার বাহিনীর লোকজন। ছাত্রদলের আহ্বায়কের পদের আধিপত্য বিস্তার করে রনি নলছিটি উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার বাণিজ্য আওয়ামী লীগের দোসরদের ঠিকাদারি বাণিজ্য, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাজ কন্ট্রাক্ট চুক্তি সহ অর্থ কামানোর ধান্দায় উঠে পড়ে লেগেছে সে।এমনকি রানাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের১৫০মিটার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান হাওলাদার করার কথা থাকলেও পট পরিবর্তনের পর সেই কাজ উঠানের দায়িত্ব নেয় রনি। তবে এখানেও করেছে মহা দুর্নীতি মাত্র ৭৫ মিটার কাজ সম্পন্ন করে এডিপির ১৫০ মিটার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজের বিল উঠিয়ে নিয়েছে সে।জুলাই অভ্যুত্থানের মাত্র ৭ /৮ মাসের ব্যবধানে রনি আজ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে যেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক পদ নয় পেয়েছে টাকা কামানোর মেশিন। আলাদীনের চেরাগ পাওয়া রনির বিরুদ্ধে প্রশাসন তদন্ত করলে কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হবার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। নিজ দলীয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চলছে সে। বহু অপকর্মের মূল হোতা নানা অপকর্মার অনুঘটক রনি প্রয়োজনে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অনুসারীদের দূরে ঠেলে দিয়ে আওয়ামী লীগকে কাছে টানছেন সে। সম্প্রতি নিজ দলের প্রতিপক্ষ দমনে ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক মাহবুব আলম আবু তাহেরকে বাদী করে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে দিয়েছেন মিথ্যা মামলা। এমনকি স্থানীয় তেঁতুলবাড়ীয়া কমিউনিটি ক্লিনিক এর চুরির সাথেও জড়িত রয়েছে এই রনি। ক্লিনিকের ওষুধ চুরিও বিদেশে পাচারের ঘটনায় হিসেবে বেরিয়ে এসেছে ছাত্রদল নেতার রনির নাম। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে রনির বিরুদ্ধে। তবে ধরাকে সরাজ্ঞান মনে করা এই রনি তার ক্ষমতার জোরে সবকিছুই ধামাচাপা দিলেও এখনো এলাকাবাসীর মুখে মুখে রয়েছে রনির এই সকল অপকর্মের কাহিনী। সম্প্রতি তেঁতুলবাড়ীয়ায় জাতীয়তাবাদী ফোরাম নামে একটি বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘরে তোলা সংগঠন ভাংচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে রনি ও তার বাহিনীর লোকজন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।