স্টাফ রিপোর্টার।। বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার মধ্যম তারিকাটা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশু সহ একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। এ সময় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গরু ও হাঁস মুরগি লুটপাট এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ১১ টায় মাধ্যম তারিকাটার কার্তিক বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, ওই গ্রামের বাসিন্দা শচীন্দ্র দাস, তার মেয়ে বাসন্তী রানী সোনামণি, স্ত্রী রেখা রানী ও মা সরস্বতী রানী। আহতদের মধ্যে সরস্বতী ও রেখা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এবং অন্যান্যরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আহত সচীন জানান, গত তিন মাস আগে তার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় পার্শ্ববর্তী দীবাঙ্কর ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় সে মামলা করেও পায়নি কোন সুফল। তারই সূত্র ধরে, ঘটনার আগের দিন রাতে পূর্ব শত্রুতা কে কেন্দ্র করে তারা শচীনের পুকুরে বিষাক্ত ঔষধ ঢেলে দেয়। এতে ৫০ হাজার টাকার চাষ করা মাছ মরে যায়। এ ঘটনায় সে গত মঙ্গলবার আদালতে মামলা করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে ওৎ পেতে থাকা দীবাঙ্কর, নীলকমল, সুদেব, রমেশ, বিলাসী রানী, মাখন, সুচিত্রা রানীসহ অজ্ঞাত আরো ৫-৭ জন তাকে মামলা উঠানোর প্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে শচীন কে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি সোটা দিয়ে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আহতের ডাক চিৎকার শুনে বাসন্তী, সোনামণি, সরস্বতী ও রেখা ঘটনাস্থলে তাকে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করে। এ সময় তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি আহত বাসন্তীর ১০ বছরের শিশু সন্তান অন্তু। শুধু তাই নয় প্রতিপক্ষরা তাদের উপর হামলা করে জোরপূর্বক তাদের গরু ও হাঁস মুরগি নিয়ে যায়।
অপরদিকে স্থানীয়রা আহতদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানের চিকিৎসকরা আহতদের মধ্যে শচীন, বাসন্তী ও সোনামনি কে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এ ব্যাপারে শচীন অভিযোগ করে আরো বলেন, প্রতিপক্ষ দীবাঙ্কর ও তার সহযোগীরা আমার বাকি গরু ও একটি টিলার মেশিন ছিনিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বলেও পাইনি কোন আইনি সহায়তা। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আহতদের স্বজনরা জানান।