হিজলা প্রতিনিধি।। বরিশালের হিজলা উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে জনগণের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে গণসংযোগকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় ৫ নম্বর হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের আহ্বায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফরিদ উদ্দিন বেপারি সহ অঙ্গসংগঠনের কমপক্ষে ২০ জন নেতাকর্মী রক্তক্ষয়ী জখম হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষের ক্যাডাররা কয়েকজনকে কুপিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে একাধিক ককটেল ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
গতকাল ২৬ জুলাই (রবিবার) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের মান্দা বাজারে এ তাণ্ডব চালানো হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সাথে কুশল বিনিময়, দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনায় মাঠে নামেন ৫ নং হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের বিএনপির আহ্বায়ক ও প্রবীণ নেতা ফরিদ উদ্দিন বেপারি। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মান্দা বাজারে সাধারণ ভোটার ও ব্যবসায়ীদের মাঝে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
এ সময় একই ইউনিয়নের বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তানভীর তালুকদারের নির্দেশে তার সমর্থিত ক্যাডার ইসমাইল মোল্লা, ফিরোজ মোল্লা, ইউসুফ মোল্লা, আলমগীর মৃধা, রাসেল মোল্লা, মারুফ রাঢ়ী, মামুন দেওয়ান, ফারুক দেওয়ান, রাজিব দেওয়ান ও নোমান, নুরে আলম জাহাঙ্গীর সহ ৩০ থেকে ৪০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (রামদা, চাপাতি ও চাটরা) নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
আহত বিএনপি নেতা আলম শরীফ জানান, হামলাকারীরা প্রার্থীর বহর লক্ষ্য করে চারদিক থেকে ককটেল বিস্ফোরক করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে জীবন বাঁচাতে স্থান ত্যাগ করেন।
এরপর হামলাকারীর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সবাইকে হত্যার চেষ্টায় এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
হামলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন বেপারি ছাড়াও যুবদল ও কৃষক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীরা মারাত্মক আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন জিয়াউদ্দিন বেপারি, মোস্তফা বাবুর্চি (মোস্তফা বেপারি), আলম শরীফ সিকদার, জসিম সিকদার, আলাউদ্দিন বাবুর্চি, কামাল মাঝি, ফারুক হাওলাদার, ফারুক ফরাজী ও আক্তার মাঝি সহ প্রায় ২০ জন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবদল নেতা জিয়াউদ্দিন বেপারি ও মোস্তফা বাবুর্চির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন। বাকিরা শেবাচিম ও স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন বেপারি অভিযোগ করে বলেন, “আমি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রায় ১০ বছর ধরে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আগামী নির্বাচনে জনগণের আস্থা ও সমর্থন আমার পক্ষে দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তানভীর তালুকদার হিংসাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি তার চিহ্নিত ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী পাঠিয়ে আমাকে ও আমার সাথে থাকা নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই নৃশংস হামলা চালিয়েছেন।”
ঘটনার পর থেকে মান্দা বাজারসহ পুরো হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নে থমথমে অবস্থা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ এলাকায় কঠোর নজরদারি জোরদার করেছে। ঘটনার বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে হিজলা থানার অফিসার্স ইনচার্জ সুলাইমান হোসেন জনান, রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে এ হামলার ঘটনার সূত্রপাত। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।