৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৮:৩১
শিরোনামঃ
নলছিটিতে মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ ও মাছ লুটের অভিযোগ, থানায় জিডি মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেমিনার ডা. অমিতাভের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ নতুন কমিটি ঘিরে সরগরম নলছিটি ছাত্রদল, আলোচনায় রাজিব আহসান কর্ণকাঠীতে কৃষি কর্মকর্তা ও তার চাচাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ। সাহেবেরহাটে ভাই ও ভাবিকে মারধরের অভিযোগ নলছিটিতে দেবর ও তার পরিবারের হামলায় ভাবি হাসপাতালে ভাটিখানায় সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলা,আহত-৩ ডা: অমলেন্দু ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনিয়ম ও সরকারি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

শেবাচিমে চিকিৎসা পেলোনা মানসিক ভারসাম্যহীন অন্তঃসত্ত্বা নারী !

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪,
  • 491 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

দুই দিনের চেষ্টায়ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি নেয়নি মানসিক ভারসাম্যহীন এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে। অবশেষে রূপাতলী বাস টার্মিনালে রেখে যেতে হয় তাকে। এমন অভিযোগ করেছেন আদর্শ নিবাস বৃদ্ধাশ্রমের স্বেচ্ছাসেবকরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা না দেওয়ার বিষয়টি অন্যায্য হয়েছে বলে মত দিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক। সমাজসেবা অধিদপ্তর বলছে, রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করার নৈতিক দায়িত্ব হাসপাতালের। তারা এই দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারেন না।

আদর্শ নিবাস বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, রূপাতলী বাস টার্মিনালে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী অবস্থান করছেন। কেউ তাকে চেনেন তাহমিনা নামে আবার অনেকে তাসলিমা নামে। কয়েকদিন ধরেই তিনি বেশ অসুস্থ। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আমরা প্রথমে চেষ্টা করেছিলাম আমাদের প্রতিষ্ঠানে রাখতে। সেখানে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরপর ব্যথায় কাতর হয়ে যাচ্ছিলেন।

ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে রাখাটা সম্ভব হচ্ছিল না। এ ছাড়া ওই নারীর চিকিৎসার দরকার। আমরা তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগ থেকেই আমাদের ফিরিয়ে দেয়।

তাজুল বলেন, শেষে আমরা হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি হাসপাতালে আমাদের থাকতে বলেন এবং জরুরি বিভাগে নির্দেশনা পৌঁছে দেন ভারসাম্যহীন ওই নারীর ভর্তি নিতে এবং চিকিৎসা দিতে। পরিচালকের নির্দেশ পেয়ে আমাদের গাইনি ও মানসিক ওয়ার্ডে পাঠায়। সেখানেও ওই নারীকে থাকতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে ওসিসিতে নিয়ে গেলে সেখানেও রাখেনি। নারী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে মানসিক ওয়ার্ডে নিয়ে গেলে সেখানকার ওয়ার্ডবয়রা আমাদের ফিরিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আমরা ৯ জন স্বেচ্ছাসেবী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরেছি অসুস্থ নারীর চিকিৎসার জন্য। হাসপাতালের সব ওয়ার্ড থেকে যখন আমাদের হতাশ করে ফিরিয়ে দিয়েছে। তখন নারীকে খাবার কিনে দিয়ে যেখান থেকে উদ্ধার করে রূপাতলী বাস টার্মিনালে রেখে আসি।

তাজুল বলেন, অসুস্থ রোগীকে কোনো হাসপাতাল চিকিৎসা দেয় না তা আমার দেখা প্রথম। আমরা খুবই হতাশ হয়েছি। আজ রোববারও আমি হাসপাতালে চেষ্টা করেছি। কিন্তু কাজ হয়নি।

জেলা সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক একেএম আকতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা আমাদের নেই। আমরা অসহায়দের ওষুধ, নবজাতকের দায়িত্ব নিয়ে সেবা করতে পারি। কিন্তু মানসিক ভারসাম্য অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা না দিয়ে সঠিক কাজ করেনি। অসহায়দের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালের নৈতিক দায়িত্ব।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসার জন্য গতকালই আমি নির্দেশ দিয়েছি। যদি তাকে হাসপাতালে ভর্তি না রাখে তা অন্যায্য করেছে। আমি ঢাকা থেকে আজ ফিরছি। আগামীকাল নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করলে আমি নিজে থেকে ভর্তির ব্যবস্থা করব।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights reserved © 2022
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo