স্টাফ রিপোর্টার
পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নে জমি জমা বিরোধের জের ধরে এক ব্যাবসায়ীকে হত্যার চেষ্টায় এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে মহিলা ইউপি মেম্বার ও তার বাহিনী। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) রাত সাড়ে ১০টায় পৈকখালি বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতের নাম সবুজ মীর সে ওই গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ লুৎফর রহমানের ছেলে। পেশায় একজন হার্ডওয়্যার ব্যাবসায়ী।
বর্তমানে সে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।আহত সবুজ জানান,তার সাথে স্থানীয় মহিলা ইউপি মেম্বার মুন্নি তার স্বামী আব্বাস ও ভাই সোহেলের দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।ঘটনার দিন ওই জমি মাপ দিয়ে সীমানা নির্ধারন করে। পরে সে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে পৈকখালী বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।
পথিমধ্যে তুলা ফ্যাক্টরীর সামনে ওৎ পেতে থাকা মুন্নি, আব্বাস ও সোহেল সহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন গাড়ী চলন্ত অবস্থায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাম দা ও রড দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানের চিকিৎসকরা তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাকে যেকোনো সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন, ওই ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, মুন্নি ও তার স্বামী ইয়াবা ব্যবসায়ী আব্বাসের অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তাকে খুন,জখম, হামলা ও মামলা সহ বিভিন্ন রকমের ভয়-ভীতি দেখিয়ে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগেও সে আদালতে সাক্ষী দিতে গেলে তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এছাড়া আব্বাস একজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী। আব্বাস, মুন্নি ও সোহেলের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় মাদক মামলা সহ বিভিন্ন রকমের একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েকদিন আগে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় তাদের অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসন নেয়নি কোন ব্যবস্থা। মুন্নি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দাপড়িয়ে বেড়াচ্ছে গোটা গ্রাম।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,আমি বিষয়টি শুনেছি তবে, এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত সেটা পুলিশ খুঁজে বের করুক। মহিলা মেম্বার মুন্নি সে তো আমার পরিষদেরই সদস্য।আমি চেয়ারম্যান হয়ে তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারিনা। আপনারা তো সংবাদ কর্মী সেটা বুঝে নিয়েন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আহতের স্বজনরা জানান।