স্টাফ রিপোর্টার।। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালসহ দেশের সকল সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূরীকরণসহ তিন দফা দাবি আন্দোলনের সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী বাহাদুর সিকদার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে আন্দোলন করছেন একমাত্র নামধারী আসামি রনিসহ তার সহযোগীরা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তাদের দাবি মেনে নেওয়ার পরও তারা হাসপাতাল কম্পাউন্ডে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ গত রোববার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাসপাতালের প্রধান গেটে অবস্থান করে গেট ভাঙার চেষ্টা চালায়। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দীলিপ রায় ওই গেট থেকে বের হলে তার পথরোধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এ সময় বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারী রনি লোহার পাইপ দিয়ে চিকিৎসকের শরীরে একাধিকবার আঘাত হানে। পরে কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যান। এতেও তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি। তারা সড়ক থেকে হাসপাতালের ভেতরে ইট নিক্ষেপ করে। এতে কর্মচারী ও রোগীরা আহত হন।
এ ব্যাপারে কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় দায়েরকৃত এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। রনিসহ যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেফতারে সোমবার রাত থেকেই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সকলস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপর হামলাকারী দুস্কৃতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান।এ সময় তারা বলেন, সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে এতে আমরা আতঙ্কিত।আমরা আশাবাদী প্রশাসন অতিদ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
একই দিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপর হামলার ঘটনায় হোসাইন আল সুহান নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সাড়ে ১২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।
গ্রেফতার হোসাইন আল সুহান বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা বলে জানিয়েছেন কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্রলীগের এক ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের সময় স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য জোর করে টহল পিকআপে উঠেছিল। তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সুহানকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হবে।