১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ৪:৪৫

তীব্র শীতে বিপাকে শিশু-বৃদ্ধরা, হাসপাতালে দীর্ঘ লাইন !

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ রবিবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৪,
  • 356 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

নদী বিধৌত বরিশাল বিভাগের মানুষ ঝড়তুফান মোকাবেলা করতে অভ্যস্ত হলেও এবারের হার কাঁপানো শীতে পর্যুদস্ত করে ফেলেছে পুরো জনপদকে। বিভাগে গত তিনদিন ধরে দেখা মেলেনি সূর্যের। শেষ বিকেলে এক চিলতে রোদ উঠলেও তা ছিল উত্তাপহীন। শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু বৃদ্ধরা। হাসপাতালেও ঠান্ডাজনিত রোগীর লম্বা লাইন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঠান্ডাজনিত রোগে বিভাগের ছয়টি জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৯ জন ঠান্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ডায়রিয়ায়। বিভাগে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ১৮৭ জন। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৭৯ জন এবং ঠান্ডাজনিত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১২৩ জন।

ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা। ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। এরমধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ভোলায় ৫১, পটুয়াখালীতে ৪১, বরগুনায় ৪০, বরিশালে ৩২, পিরোজপুরে ২২ ও ঝালকাঠিতে ১১ জন। নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টেও সবচেয়ে বেশি পটুয়াখালীতে ৩১ জন, ভোলায় ২১, বরিশালে ১৬, পিরোজপুরে ৮ ও ঝালকাঠিতে ৩ জন। ঠান্ডাজনিত অন্যান্য রোগের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পটুয়াখালীতে ৮১ জন। ঝালকাঠিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ জন আর বরিশালে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ জন।

গত ১ মাসে এই বিভাগে শীতকালীন রোগের প্রাদুর্ভাবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৩৯৩ জন।এরমধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৯৬ জন এবং নিউমোনিয়া-শ্বাসকষ্টে ভুগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৯৭ জন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, শীত এলেই ঠান্ডাজনিত রোগের প্রার্দুভাব হয় বরিশাল অঞ্চলে। আমরা ছয়টি জেলার সবগুলো সরকারি হাসপাতাল, সেবাকেন্দ্রে শীতকালীন রোগের গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।

তিনি জানান, দিনে দিনে রোগী বাড়লেও দ্রুত সময়ে চিকিৎসা পাওয়ায় মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। শীত কমতে শুরু করলে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কমবে।

এদিকে বরিশাল নগরী ঘুরে ও শহর লাগোয়া উপজেলাগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহর এলাকার চেয়ে গ্রাম অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাসিন্দা মুনসুর বলেন, এরচেয়ে অন্যান্য বছর বেশি শীত লাগলেও এবার হাত-পা সব বরফ হয়ে যাচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহেও মাঠে সবজি তুলেছি। কিন্তু এ বছর কিছুই পারছি না।

সদর উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের করিমন বেগম বলেন, আজ দুইদিন ধরে নাতি-নাতনিদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ রেখেছি। তারা ঘরেই থাকছে। এত শীত আগে কখনো পাইনি।

বরিশাল নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউতে একরামুল হক বলেন, শীতের প্রভাব ৩/৪ দিনে কেটে যেতে পারে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু গত দুইদিন ধরে যে শীত লাগছে তাতে হার পর্যন্ত কেঁপে যাচ্ছে। সামনের দুই-তিনদিন কাটানোর জন্য শীতের পোশাক কিনতে আসলাম।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের পোশাকের দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ক্রেতারা। সিটি মার্কেটের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, শৈত্যপ্রবাহ যে কয়দিন চলবে ততদিন আমাদের দোকানে ক্রেতা বেশি। দম ফেলার সুযোগ পাচ্ছি না। শীত কমলে এই চাহিদা কমে যাবে।

বিভাগীয় আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, শনিবার বরিশালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ রোববার তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই এই মৌসুমে বিভাগের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

তিনি বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে।

এদিকে শীত মোকাবেলায় জেলার বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী, জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights reserved © 2022
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo