১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৫:৩৩
শিরোনামঃ

ডা: অমলেন্দু ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনিয়ম ও সরকারি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইমঃ সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২৬,
  • 251 সংবাদটি পঠিক হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার।। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন-৪ এর ইউনিট প্রধান অধ্যাপক ডা: অমলেন্দু ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মস্থলে অনিয়ম, হাসপাতালের দায়িত্ব পালনে অবহেলা,সরকারি কর্মঘণ্টায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগী, স্বজন এবং হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও ডা: অমলেন্দু ভট্টাচার্য নিয়মিতভাবে সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বাংলা বাজার শাখা পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এন্ডোস্কপি ও কোলোনোস্কপি পরীক্ষা করে থাকেন। এর ফলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সময়ে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ না পেয়ে তারা ভোগান্তিতে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি অনেক রোগীর সঙ্গে তার আচরণ রূঢ় ও অমার্জিত। প্রয়োজনীয় তথ্য বা পরামর্শ চাইতে গিয়েও অনেক সময় তারা অসন্তোষজনক আচরণের শিকার হন বলে দাবি করেছেন রোগী ও তার কয়েকজন স্বজন। তাদের ভাষ্য, এতে রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে।

এছাড়া অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়, যার ফলে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে অতীতে একাধিক চিকিৎসকের বদলি হলেও ডা: অমলেন্দু ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে জানা গেছে, তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত। জুলাই অভ্যুথানের ৫ আগস্টের পর অনেক ফ্যাসিস্ট ঘড়ানার চিকিৎসক বদলী হলেও তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে ভারতে অর্থ পাচারের অভিযোগ।

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় উপস্থিত থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জনস্বার্থে জরুরি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা: অমলেন্দু ভট্টাচার্যের মোবাইল ফোনে ফোন করলে বিষয়টি মিথ্যা বলে তিনি এড়িয়ে যান এবং তার ব্যক্তিগত চেম্বারে দেখা করতে বলেন।

এদিকে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয় এবং রোগীরা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে নলছিটি তিমিরকাঠি গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মান্নানের স্বজন শহিদুল জানান, গত মঙ্গলবার থেকে তার রোগী হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট -৪ চিকিৎসাধীন থাকার পর এ পর্যন্ত ডা: অমলেন্দু ভট্টাচার্যকে ওয়ার্ডে একবার দেখতে পান। একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কবিরুজ্জামান জানান, সে গত ৫ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। এই ৫ দিনের মধ্যে ডা: অমলেন্দু কে একদিন দেখতে পান। এ ব্যাপারে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা: আনোয়ার হোসেন বাবলু’র মোবাইল ফোনে ফোন করলে তার ফোন রিসিভ হয়নি।
বিষয়টি জানতে শেবাচিমের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা.একেএম মশিউর মুনীরের মুঠোফোনে ফোন করলে তার ফোন রিসিভ হয়নি।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ ...
© All rights reserved © 2022
Developed By Engineerbd.net
EngineerBD-Jowfhowo