স্টাফ রিপোর্টার।। মামলা উঠাতে রাজি না হওয়ায় নগরীর হরিনাফুলিয়া এলাকায় ফরহাদ হোসেন (৩৮) নামে এক যুবককে হত্যার চেষ্টায় এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে সন্ত্রাসী রিপন ও তার সহযোগীরা। আহতকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় আহত ফরহাদের বসত ঘর ভাঙচুর, নগদ অর্থ,স্বর্ণলংকার, এবং জমি-জমার দলিল সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত সোমবার (২২জুলাই) বিকেলে নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ডস্থ নতুন হাট বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নগরীর ২৬ নং ওয়ার্ড হরিণাফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলিম মল্লিক ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রাজস্ব শাখায় উচ্চমান সহকারি পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুর পর তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিলকিস বেগম জালিয়াতির মাধ্যমে ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাজাহান, অফিস সহকারী মাহমুদ ও কম্পিউটার অপারেটর সাদ্দামের জোগসাজসে সাবেক স্বামীর মৃত্যুর কথা গোপন রেখে পরবর্তী পেনশনের টাকা ও অন্যান্য পাওনাদির মধ্য থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
উল্লেখ থাকে যে আব্দুল আলিম মল্লিক জীবিত থাকা অবস্থায় ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশাল সদরের নিকাহ রেজিস্টার ও কাজী একেএম ইব্রাহিমের মাধ্যমে বিলকিস বেগমকে তালাক প্রদান করেন। যার বালাম নম্বর ৯,পাতা নম্বর ৭৬। তালাকের কথা গোপন রেখে ভোলা জেলা প্রশাসক রাজস্ব শাখায় কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাজাহান,অফিস সহকারী মাহমুদ ও কম্পিউটার অপারেটর সাদ্দামের সহযোগিতায় আব্দুল হালিম মল্লিকের সাবেক স্ত্রী বিলকিস বেগম স্বামীর মৃত্যু পরবর্তী পেনশনের টাকা ও অন্যান্য পাওনাদি থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এই টাকা থেকে বড় একটা অংশ চলে যায় ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় কর্মরত শাজাহান, মাহমুদ ও সাদ্দামের কাছে বলে জানান আব্দুল হালিমের কন্যা ফাতেমা আক্তার। মায়ের জালিয়াতির কথা ও ভবিষ্যতে তাকে টাকা না দেয়া হয় সে জন্য ভোলা জেলা প্রশাসকের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আব্দুল হালিমের মেয়ে ফাতেমা আক্তার ও ছেলে আশ্রাফুল আলম। একই সাথে প্রতারক মায়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও দায়ের করেন। সর্বশেষ ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অভিযুক্ত ওই ৩ কর্মচারী ও বিলকিস বেগমের বিরুদ্ধে গত ৩০ এপ্রিল বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ফাতেমা আত্মার ও আশরাফুল আলম। তাদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শুনে তাদের পিতার মৃত্যু পরবর্তী পেনশনের টাকা বুঝিয়ে দিতে ভোলা জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন গত সোমবার বিকেলে ফাতেমার স্বামী ফরহাদ হোসেন শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে নতুন হাট বাজারে ওৎ পেতে থাকা স্থানীয় চিহ্নিত মাদক সম্রাট ও বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির রিপন তার সহযোগী সালাম মোল্লা, ও কথিত স্ত্রী বিলকিস ফরহাদের পথ রোধ করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা উত্তোলনের প্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে রিপন সহ অন্যান্যরা ফরহাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলো পাতারি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তার ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্হল থেকে আহত কে গুরুতর অবস্থা উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত ফরহাদ অভিযোগ করে বলেন, বিলকিস বেগমের কথিত স্বামী অভিযুক্ত রিপন একজন পেশাদার মাদক বিক্রেতা। কয়েকদিন আগে সে র্যাবের হাতে ফেন্সিডিল সহ গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন হাজত খাটে।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, আমার শ্বশুরের মৃত্যুর পর শ্বাশুড়ি বিলকিস বেগমের কথিত স্বামী হুমায়ুন কবির রিপনকে নিয়ে পেনশনের টাকা ও সকল জমি জমা জোরপূর্বক দখল দিতে যাচ্ছে। আমি বিভিন্ন সময় বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে মাদক ব্যবসায়ী রিপন আমাকে হত্যা সহ বিভিন্ন রকমের ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একাধিকবার সাধারণ ডায়েরি করেছি। তবুও তিনি হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। রিপন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।তার হাত থেকে রক্ষা পেতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এর আশু দৃষ্টি কামনা করছি।