অনলাইন ডেস্ক: বাবুগঞ্জে জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গর্ভের বাচ্চা সহ অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বাবুগঞ্জ উপজেলার ২ নং কেদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভুতেরদিয়া গ্রামের ৩ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার অন্তঃসত্ত্বা নারীর নাম আফরোজা আক্তার। তিনি ঐ এলাকার বাসিন্দা মোতাহাব হোসাইন মাঝির মেয়ে। ঘটনার পর আফরোজা আক্তার বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিবাদীরা হলেন- লুৎফর মাঝির ছেলে তরিকুল ইসলাম, মৃত সইজউদ্দিন দুয়ারীর মেয়ে আকলিমা, ছেলে ইউসুফ দুয়ারী, মৃত নাজিম উদ্দিন দুয়ারীর ছেলে সরোয়ার দুয়ারী, মোসলেম হাওলাদারের মেয়ে মুন্নি সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আফরোজা আক্তারের সাথে তার প্রতিবেশী তরিকুল ইসলাম মাঝি, আকলিমা দুয়ারী, ইউসুফ দুয়ারী, সরোয়ার দুয়ারী ও মুন্নি বেগম দের সাথে বসত ভিটার জমিজমা এবং রাস্তার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ৩ জুলাই, রোজ বৃহস্পতিবার আফরোজা আক্তারের বসত ঘরের পাশে হাঁটার রাস্তার মাটি জোরপূর্বক কেটে নিয়ে যায় বিবাদী পক্ষরা। এতে আফরোজা আক্তার বাধা প্রদান করলে তাদের মধ্যে কথার কাটাকাটি হয়। এরপরে সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ তারা দলবেঁধে এসে অতর্কিতভাবে হামলা চালায় আফরোজা আক্তার ও তার মায়ের উপরে। এ সময়ে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র রামদা, চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, দা, ছুরি, শাপল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তাদের ডাক চিৎকার শুনতে পেয়ে তাদের রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে তার মামাতো ভাই বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল ইসলাম। তখন সন্ত্রাসী বাহিনীর সাকিবুল কে প্রকৃতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে তার উপরে আক্রমণ করে। এসময় তারা সাকিবুলের মাথায় চাইনিজ কুড়াল কুপিয়ে জখম করে। পরক্ষণে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আহতদেরকে বাহেরচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এদিকে জানা গেছে, এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িত সকলে বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল ও এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতো। এর আগেও তারা হত্যা মামলার সাথে জড়িত থাকার কারণে জেল খেটেছে, এলাকাবাসী তাদের এই দুর্বিষহ অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।