স্টাফ রিপোর্টার
বরিশাল নগরীর কলেজ রোড সংলগ্ন শের-ই-বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে এক পাষণ্ড শিক্ষকা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকালে স্কুল চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম সোহাগী আক্তার সে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। বর্তমানে সে শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা রয়েছে। আহত সোহাগী জানান,সে প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যায়। স্কুলে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে ঘটনার দিন স্কুলে অনুষ্ঠান থাকায় সকল শিক্ষার্থীরা ক্লাসে সাজতে থাকে। এ সময় স্কুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের শিক্ষকা নাজমা শরীরচর্চা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে বাঁশি দেয়।
কিন্তু শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্সের প্রচন্ড শব্দে বাশির আওয়াজ শুনতে পায়নি। একপর্যায়ে নাজমা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে এলোপাথাড়ি লাঠিপেটা করে। এ সময় সোহানা নামে এক শিক্ষার্থীর স্থানে আঘাত লেগে গুরুতর জখম হয়। এ ব্যাপারে কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষকা শবনম বলেন, শিক্ষার্থীরা কোন উল্টাপাল্টা কাজ করলে শিক্ষকরা তো মারধর করবেই। এটাই নিয়ম বলে তিনি সাব জানিয়ে দেন। তিনি এক সচিবের আত্মীয় বলেও পরিচয় দেন।
যেখানে সরকারি বিধি-বিধানে নিয়ম রয়েছে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বেত কিংবা লাঠি দিয়ে প্রহার করতে পারবেনা কিন্তু সেই নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে নাজমা প্রায় সময় শিক্ষার্থীদের উপর বেত্রাঘাত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, নাজমা কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তাদের উপর করে থাকে অত্যাচার ও অবিচার। বছর ২ আগে ওই স্কুলের দায়িত্ব রত এক শিক্ষক এক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করলে তার কানের পর্দা ফেটে যায়। পরে সেই ছাত্রের মা বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে।
পরে সে তার ভুল স্বীকার করে তাদের কাছে ক্ষমা চায়। ফলে তারা মামলা উঠিয়ে নেয়। কিছুদিন পরপর ওই প্রতিষ্ঠানে এরকম ঘটনা ঘটলেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না স্কুল কমিটি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা আশরাফুন্নেসা বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে সেজন্য আমরা অনুতপ্ত। আহত ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা সকল খরচ আমরা বহন করছি। এই বলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।