স্টাফ রিপোর্টার।। ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার ৯ নং দপদপিয়া ইউনিয়নে জমি দখলের পায়তারা কে কেন্দ্র করে ফ্রান্স ফেরত এক প্রবাসীকে হত্যার চেষ্টায় এলোপাথাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে আওয়ামী লীগের দোসর ও ভূমিদস্যু বসার সিকদার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১ টায় তিমির কাঠি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতের নাম বাহারুল খন্দকার (শফিক) সে ওই গ্রামের বাসিন্দা রুস্তম আলী খন্দকারের ছেলে ও ফ্রান্স ফেরত প্রবাসী। বর্তমানে সে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা ও ফ্রান্স ফেরত প্রবাসী বাহারুল খন্দকারের প্রৈত্রিক ও ক্রয়কৃত সম্পত্তির পাশে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজ ও ইয়াবা’র ডিলার রাকিব সিকদার গত ৪ বছর পূর্বে ৪৮ পয়েন্ট জমি ক্রয় করে। ৪৮ পয়েন্ট জমি ক্রয় করলেও সে বাহারুলের জমি থেকে ৫ শতাংশ জমি নিজের বলে দাবী করে দীর্ঘদিন ধরে জবর দখলের পায়তারা করে আসছে। এ ব্যাপারে রাকিব শিকদার বাহারুল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তারই সূত্র ধরে ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার ভূমি অফিস থেকে সরকারি আমিন জমি মাপ যোপ করে দুই পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে সোমবার অফিসে দেখা করতে বলে। তারা চলে যাওয়ার পরপরই বাহারুল কে হত্যার উদ্দেশ্যে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দোসর বসার শিকদারের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে রাকিব সিকদার ও তার ভাই রাজীব সিকদার সহ অজ্ঞাত আরো ২০-৩০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী তাকে লাঠি সোটা ও ইট পাটকেল দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্বজনরা আহতকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত বাহারুল অভিযোগ করে বলেন, গত তিন মাস পূর্বে আমরা আমাদের সেই জমিতে স্টল নির্মাণ করলে সেখানে রাতের অন্ধকারে রাকিব ও রাজিব নিজেদের স্টল দাবি করে। একপর্যায় সেখানে জোরপূর্বক মিটার লাগিয়ে দেয়। মাদক সম্রাট রাজিব বছর কয়েক আগে আমেরিকায় ইয়াবা পাচার কালে ঢাকায় পুলিশের হাতে ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার হয়। শুধু তাই নয় ওই এলাকায় কেউ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা জমি ক্রয়-বিক্রয় করলে রাকিব ও রাজীবকে দিতে হয় মোটা অংকের চাঁদা। চাঁদা না দিলে তাদেরকে হত্যা,হামলাও মামলা সহ বিভিন্ন রকমের ভয়-ভীতি দেখিয়ে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজের স্বার্থ হাসিলে ছাড় দেননা কোন শিশু,আবাল কিংবা বৃদ্ধ কে। তাদের দুই ভাইয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দপদপিয়া বাসি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। মুখ খুললেই তাদেরকে হতে হয় হামলা ও মামলার শিকার। এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনীর কাছে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।