স্টাফ রিপোর্টার।। বরিশাল সদর উপজেলার,কর্ণকাঠি গ্রামে রাস্তায় বিছানো ইট নেয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধা সহ একই পরিবারের ৩ জনকে হত্যার চেষ্টায় এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। শুধু তাই নয় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অপর পক্ষের রুবিনা ও সাফিয়া নাটকীয় ভাবে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৭ এপ্রিল ) বিকেল সাড়ে ৪ টায় কর্ণকাঠির ফকির বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, ওই গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ আলী ফকির তার ছেলে শিহাব ফকির ও নাতনি সাদিয়া। স্থানীয়রা আহতদের কে শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে তাদের মধ্যে শিহাব নামে ১ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে চিকিৎসকরা। আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ছয় মাস আগে ওই গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন ফকিরের ঘরের সামনে মাটি ভরাট করে। এতে বর্ষার পানি বাড়ির মশগুনি রাস্তায় জমে রাস্তা জলাশয় পরিণত হয়। বিষয়টি পার্শ্ববর্তী আশরাফ আলী ফকিরের ছেলে শিহাব জিজ্ঞাসাবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমায়ুন ফকির, নাঈম ফকির, শওকত ফকির, রাজা ফকির ও বাবুল ফকির সহ কয়েকজন মিলে তাকে বেধড়ক মারধর করে। বিষয়টি শিহাবের পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠকে হুমায়ুনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে শিহাবের পরিবারের কাছে তুলে দেয়। এবং দুপক্ষকে মিলিয়ে দেয়। অন্যদিকে রাস্তায় আটকে থাকা পানি নদীতে না নামায় রাস্তার বেহাল দশা দেখে ঘটনার ৩ দিন পূর্বে শিহাব গং রাস্তায় ইট বিছিয়ে দেয়।তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে প্রতিপক্ষ হুমায়ুন ফকির, নাঈম ফকির,শওকত ফকির, রাজা ফকির, বাবুল ফকির,রুবিনা ও সাফিয়া সহ কয়েকজন জোরপূর্বক রাস্তায় বিছানো ইট তুলে ফেলে দেয়। এ সময় শিহাব বিষয়টি হুমায়ুন কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমায়ুন সহ অন্যান্যরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা এবং চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তার মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। তার ডাক চিৎকারে তার বাবা আশরাফ ও ভাগ্নে সাদিয়া ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে তাদের স্বজনরা আহতদেরকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। শিহাবের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথার হাড় ভেঙ্গে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। তারা আরো জানান,তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এর আগেও হুমায়ুন ও তার সহযোগীরা জমি জমা ও গাছ পালা নিয়ে একাধিকবার তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হুমায়ূন বাহিনীর অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বন্দর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন,দুপক্ষই আহত, তাই পাল্টাপাল্টি এজাহার দায়ে করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।