এম.আর শুভ
নানা কারনে সড়কে যানজটের ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। এতে পথচারী সহ সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। তবে যানজট নির্মূলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা অবিরত কাজ করলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সড়কের দুই পার্শ্বে প্রতিনিয়ত গড়ে ওঠা ভাসমান অবৈধস্থাপনাগুলোতে ।
সড়ক ও সড়কের পার্শ্ব দখল করে এমনভাবে এসব স্থাপনাগুলো গড়ে ওঠছে দেখলে মনে হবে এটি কোন মার্কেট। মোটকথা সড়কের অর্ধেকটা দখলে নিয়ে অবৈধ এসকল স্থাপনা গড়ে ওঠায় যানজট ও চলাচলে মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টির কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া সড়কের পার্শ্বে অবৈধ যানবাহনের পার্কিং এর ফলেও যানজটের নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে।
সবমিলিয়ে অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিং এ সড়কগুলোকে সড়ক নয় কোন স্ট্যান্ড কিংবা মার্কেট বলেই মনে করবেন অনেকে। আর এ কারনে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে সড়কজুড়ে। এমন চিত্র বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায়। বিভিন্ন স্থানে এমন অব্যবস্থাপনায় বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
বিভিন্ন সময়ে সিটি কর্পোরেশনের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে ঠিক একইভাবে গড়ে ওঠছে অবৈধ এসব স্থাপনা ও সড়কের পার্শ্বে অবৈধ স্ট্যান্ড। খোদ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পার্শ্বে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রোডের সম্মুখের সড়কের অনেকাংশ দখল করে গড়ে ওঠেছে ভাসমান অবৈধ এ স্থাপনাগুলো।
ফায়ার সার্ভিসের বিপরীতে বরিশালের বৃহত্তম পোশাক বাজার মহসিন মার্কেট (ডিসি মার্কেট) থাকলেও সড়ক দখল করে গার্মেন্ট সামগ্রী, ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, তৈরি পোশাক, জুতো-সেন্ডেল ইত্যাদি পণ্যের ব্যবসা খুলে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভাসমান পোশাক বাজারে পুরো এলাকাটিজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
এছাড়া থ্রি-হুইলার-হলুদ অটো রিকশার অবৈধ পার্কিং এ আরও তীব্র যানজটের নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। ব্যস্ততম সড়কগুলোর পার্শ্বে অবৈধ এ স্থাপনায় সকাল থেকে রাত অবধি যানজট লেগেই থাকে । আর ভোগান্তির শিকার হন পথচারীরা।
এদিকে ভোগান্তিতে শুধু পথচারীরাই নন বিপাকে পড়েছেন স্থায়ী পোশাক বিক্রেতারাও । বহুমুখী মহসিন মার্কেটটির (ডিসি মার্কেট) ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন। ঐ মার্কেটের পোশাক বিক্রেতারা জানান, ট্যাক্স-নিয়মিত ভাড়া সহ যাবতীয় সব নিয়মানুযায়ী পালনের মধ্য আমরা ব্যবসা পরিচালনা করে থাকি। সামনে আসছে শীত।
এ সময়টা আমাদের পোশাক বিক্রির একটি মৌসুম। ক্ষতি পুষিয়ে এ মৌসুমে আমরা ব্যবসার মাধ্যমে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করি। এসময়টাতেও যদি আমাদের মার্কেটের সামনে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে সেটিতে আমাদের বড় লোকসান গুনতে হবে । এনিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। মার্কেটের সামনে অবৈধভাবে হকারদের ভাসমান এ স্থাপনাগুলোয় মার্কেটের ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ফুটপাত দোকান বন্ধের আবেদন জানান হাজ্বী মোহাম্মদ মহসিন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তারা বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা অভিযোগে জানান, করোনাকালীন বিশ্ব মহামারিতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
আমরা পোশাক ব্যবসায়ীরা সিটি হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি, আয়কর সহ সকল প্রকারের বিল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে আসছি। অথচ আমাদের মার্কেট ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মুখে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ছাতা ও ছাউনি টানিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা। এতে বিভিন্ন সময়ে যানজটও লেগেই থাকে। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করলে তারা ফায়ার সার্ভিস অফিসের কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করছেন বলে জানান।
আমরা বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মহোদয়ের কাছে আবেদন করলে তিনিও তাদেরকে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনায় নিষেধ করেন। অথচ তারা এসবের তোয়াক্কা না করে হরদমেই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এতে ব্যবসার চরম ক্ষতি সাধন হচ্ছে বলে জানান মহসিন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।
বিষয়টি প্রতিকারে সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা। এদিকে শুধু মার্কেটের সামনেই নয় নগরীর কাকলীর মোড়, চৌমাথা , সদর রোড, জেলখানার মোড় সহ গুরুত্বপুর্ণ অন্যান্য সব পয়েন্টগুলোতে যানবাহনের অবৈধ পার্কিং ও গড়ে ওঠা নানা স্থাপনায় এ যানজটের মাত্রা আরও তীব্র হচ্ছে। অবিলম্বে সমস্যা নিরসনে সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সচিব মোসাঃ মাসুমা আক্তার জানান, পর্যায়ক্রমে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।