স্টাফ রিপোর্টার।। উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নে চলাচলের পথ বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধাসহ একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যার চেষ্টায় এলোপাথাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। এ সময় স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৮ মে ) বেলা ১১ টায় পূর্ব ধামুরা গ্রামের মীর বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, ওই গ্রামের বাসিন্দা মৃত: মানিক মীরের স্ত্রী আলেয়া বেগম মেয়ে মনজু বেগম, আসমা বেগম, ছেলে আলামিন মীর ও পুত্রবধূ স্মৃতি। আহতদের মধ্যে আসমা উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন এবং মনজু ও আলামিনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
আহত মনজু জানান, তার পরিবারের সাথে পার্শ্ববর্তী চেরাগ আলী মীরের দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের একটি রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। সেই সুযোগে চেরাগ আলীর ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে রাস্তা দিয়ে হাটতে দিবে বলে তার পরিবারকে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তার পরিবার চেরাগ আলীর ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলেও তাদেরকে পথ চলাচলে বাধা প্রদান করে। এ ঘটনায় তখনকার ইউপি চেয়ারম্যান কবির কাজীর বরাবর অভিযোগ করলে সে মীমাংসা করে দিবে বলে তাদেরকে আশ্বাস দেন। তারই সূত্র ধরে ঘটনার দিন শনিবার বেলা ১১ টায় তার বোন আসমা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পথে ওৎ পেতে থাকা চেরাগ আলী মীর বাধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে চেরাগ আলী মীর, মামুন মীর, সাইফুল মীর ও ফাইজুল হক মীর সহ আজ্ঞাত আরো ৫-৭ জন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড এবং লাঠিসোটা সহ দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তার ডাক চিৎকার শুনে মনজু, আলামিন, আলেয়া ও স্মৃতি ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা আহতদেরকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানের চিকিৎসকরা তাদের মধ্যে মনজু ও আলামিনকে শের-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এদিকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চেরাগ আলী তার নিজের রান্না ঘরে আগুন লাগিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, চেরাগ আলী ও তার পরিবারের কাছে তার পরিবার জিম্মি হয়ে রয়েছে। তাদের অত্যাচারে তার পরিবার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে শোলক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, আমি চেরাগ আলীকে বলেছিলাম রাস্তা দেয়ার জন্য। কিন্তু তারা যেখান থেকে পথ চায় সেখান দিয়ে না দিয়ে অন্য জায়গা দিয়ে পথ দিতে চায় এবং আমি শুনেছি এ নিয়ে আজ হামলার ঘটনা ঘটেছে তাদেরকে আমি চিকিৎসা নিতে বলেছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হালিম সরদার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
এ ব্যাপারে উজিরপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মো:জাফর আহমেদ বলেন, আহতরা একটি অভিযোগ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।