স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল সদর উপজেলার বন্দর থানাধীন ৯ নং টুঙ্গীবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সিংহের কাঠী গ্রামে জমি দখলের জের ধরে বাপ ও শিশু সন্তান কে হত্যার চেষ্টায় এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ সহ বিদেশি হাত ঘড়ি ও একটি উন্নত মানের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টায় পশ্চিম সিংহের কাঠি হযরত ফাতেমা আলী মাদ্রাসার পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতের নাম: রাসেল হাওলাদার রিপন সে ওই গ্রামের বাসিন্দা সুলতান আহম্মেদের ছেলে ও ঢাকায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছে। বর্তমানে সে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতের স্ত্রী মাকসুদা জানান, তার শ্বশুর সুলতান আহাম্মেদের ২০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে জবর দখলের পাঁয়তারা করে আসছে একই গ্রামের ভূমি দস্যু, নারী কেলেঙ্কারি, ও ধর্ষণ মামলার আসামি মোফাজ্জেল হোসেন খান চান্দু ও তার সহযোগীরা।
এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মোফাজ্জেল হোসেন খান চান্দু আদালতে তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার মামলা করলে সেই মামলায় সুলতানের পক্ষে রায় পায়। তারই সূত্র ধরে ঘটনার দিন শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় রিপন তার শিশুসন্তান মো: রেদওয়ান কে সাহেবের হাত থেকে চুল কাটিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথিমধ্য পশ্চিম সিংহের কাঠি হযরত ফাতেমা আলী মাদ্রাসার পাশে ওত পেতে থাকা মোফাজ্জেল হোসেন খান চান্দু, ছেলে ফেরদাউস খান, ভাগ্নে মিজান, জাহিদুল ও দুর্ধর্ষ ডাকাত দলনেতা ইয়াকুব আলী সহ কয়েকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী রিপনকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বগিদা,চাপাতি ও রড সহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে তার মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে এবং তাকে পাশে ঢাকা ডোবার ভেতরে ফেলে দেয়।
এ সময় তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি তার শিশু সন্তান রেদওয়ান। তার মুখ বেঁধে বেধড়ক মারধর করে তাকেও ফেলে রেখে যায় তার বাবার সাথে। তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশংকা জনক, তাকে যে কোন মুহূর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন, ওই ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মাকসুদা আরো বলেন, গত ১১ মে তার ও তার জ্যা কুলসুমের উপর প্রতিপক্ষরা অতর্কিত হামলা চালায়।এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা করতে গেলে সেখানের দায়িত্ব রত অফিসার মামলা না নিয়ে জিডি নেন। জিডি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে চান্দু ও তার সহযোগীরা রিপনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে জীবন নাশের হুমকি ধামকি দিয়ে তারা চলে যায়। তাদের অত্যাচারে গ্রামবাসী অতিষ্ঠ। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। মুখ খুললেই তাদেরকে দেখানো হয় হামলা,মামলা সহ বিভিন্ন রকমের ভয় ভীতি।
আহত রিপনের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তার স্বজনরা জানান।