সকালে বি এম কলেজের কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে গিয়ে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কয়েকজন কোটা আন্দোলনকারী ছাত্রকে ক্যাম্পাসে পেয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কোটা আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসের সামনে এসে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় কয়েকদফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ছয়-সাতজন আহত হয়।
কলেজ ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের অবস্থান শক্তিশালী হলে তারা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাস এলাকায় কোণঠাসা করে ফেলে। পরে সেখান থেকে ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী বের হয়ে যায়।
কিন্তু ছাত্রলীগ কর্মী শিবলী ডিগ্রি হলের জামে মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা মসজিদ ঘিরে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে কলেজ অধ্যক্ষ গোলাম কিবরিয়া অন্যান্য শিক্ষক ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে মসজিদে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের কাছে যান।
তাদের সঙ্গে কথা বলে ছাত্রলীগ কর্মী শিবলীকে সেখান থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তখন শিক্ষার্থীরা হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মীকে কান ধরে উঠবস ও ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু তা না করে পুলিশ ও শিক্ষকরা ব্যারিকেড দিয়ে ছাত্রকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তখন ছাত্ররা লাঠিসোটা নিক্ষেপ শুরু করে। এতে শিবলী আহত হয়।
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আলী আশরাফ ভুঞা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নিক্ষেপ করা লাঠি ও ইট-পাটকেলে তিনি সহ পুলিশের ৮-১০ জন আহত হয়েছে। ডিগ্রি হলের মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া শিবলীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মী শিবলীও আহত হয়েছেন।
বি এম কলেজের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হুাজাইফার রহমান বলেন, “আমরা অহিংস গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছি। সেখানে অতি উৎসাহীরা কিছু ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা মোটেও কাম্য নয়। আমাদের মধ্যে কেউ হয়তো ঢুকে পড়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”